ঢাকা , সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬ , ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্ডারপাস না থাকায় মহাসড়কে বাড়ছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০২-০৮-২০২৬ ১২:৩০:৪৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০২-০৮-২০২৬ ১২:৩০:৪৪ অপরাহ্ন
আন্ডারপাস না থাকায় মহাসড়কে বাড়ছে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের আশেকপুর এলাকায় আন্ডারপাস না থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে প্রাণহানিসহ অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটছে। স্থানীয়রা বলছেন, মহাসড়ক হওয়ার পর আশেকপুর এলাকাটি দুভাগে বিভক্ত হওয়ায় বিপাকে পড়েছে উভয় পাশের মানুষ। আর দ্রুত আন্ডার পাসের আশ্বাস দিয়েছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।

প্রায় ২৮ বছর আগে যমুনা সেতু নির্মাণের পর সময় ও দূরত্ব কমাতে মহাসড়কের নগরজালফৈ থেকে রাবনা বাইপাস পর্যন্ত মহাসড়ক নির্মাণ করা হয়। এতে আশেকপুর এলাকা দুভাগে বিভক্ত হয়। ৫ বছর আগে মহাসড়কটি ৪ লেনে উন্নতি হলেও কোনো আন্ডার পাস না থাকায় সড়কে বিভাজন দেয়ার কারণে দুর্ভোগ বাড়তে থাকে। ঝুঁকি নিয়ে চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে হতাহতের ঘটনা। আন্ডার পাসের দাবিতে মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।

আশেকপুরের ৮০ বছরের জাবেদ আলী। আন্ডার পাস না থাকায় সড়ক দুর্ঘটনায়, তিনি, তার ছেলে, ভাগিনা, চাচাতো ভাইসহ পরিবারের অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন। ভাগ্যের জোরে বেঁচে যাওয়া জাবেদ আলীও ভোগান্তি লাঘবে চান আন্ডার পাস।

আহত জাবেদ আলী বলেন, ‘আমার এক ছেলে, ভাগিনা আমার ভাইস্তা, আমার চাচাতো ভাই, এরাও ক্ষতি হয়েছে।’

স্থানীয়রা বলছেন, মহাসড়কের পূর্বপাশে মসজিদ, কবরস্থানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান। আর পশ্চিম পাশে প্রাথমিক, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ফলে চলাচলে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি মরদেহ কবরস্থানে নেয়ার জন্য ৩-৪ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গোরস্তানের সমস্যা, স্কুলে যাতায়াত সমস্যা হচ্ছে। তাছাড়া এখানে আন্ডার পাস দরকার।

সড়কটি সাসেক ১ প্রকল্পের আওতায় ৪ লেনে উন্নতি করা হয়েছে। আশেকপুরে আন্ডার পাসের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে বলে জানান সড়ক ও জনপথ বিভাগের এ কর্মকর্তা।

টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগ উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রকল্প চলমান আছে, তাই আমরা এখনও লিখিতভাবে পাঠাইনি। প্রকল্পের এই মেয়াদ শেষ হলে আমরা লিখিতভাবে পাঠাব। তারপর ডিজাইন ইউনিট থেকে যেভাবে আমাদেরকে ডিজাইন দেয়া হবে, সে অনুপাতে, সে অনুযায়ী সরকারের বিধিমোতাবেক আমরা হচ্ছে নির্মাণ কাজ করব।’

স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলেন এ প্রতিমন্ত্রী।

মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘এ ব্যাপারে কী করা যায়, রোডসের সঙ্গে কথা বলব, সড়ক বিভাগের সঙ্গে কথা বলে সেই ব্যাপারে আমরা ইনশাল্লাহ পদক্ষেপ নেব।’

স্থানীয়দের তথ্যমতে, গত দেড় বছরে আশেকপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ১০ জনের মৃত্যু ও দেড় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এনআইএন 

 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ